স্বপ্নের পথে হাঁটার অভ্যাস কার নেই। পরিচিত মহল থেকে একটু দূরে, নির্জন
স্থানে, মনের মতো একটি পরিবেশে, যেখানে সব কিছু সাজিয়ে রাখা পরিপাটিভাবে,
চাইলেই প্রকৃতিকে আলিঙ্গন করা যায় অনায়াসে। এ রকম একটি স্থানে ঘুরতে কার না
ভালো লাগে! আমাদের অতিপরিচিত কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপেই মিলবে এর সব
কিছুর সমন্বয়। সমুদ্র, পাহাড় আর গহিন অরণ্যের সাথে বন্যপ্রাণী আর পাখিদের
কলকুঞ্জন। জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, মিঠাপানের বরজ, আদিনাথ মন্দির, পাহাড়ের
ওপর পুকুর, মহেশখালী জেটির জন্য অনেক আগেই যার নাম দেয়া হয়েছে সাগরকন্যা।
তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই দ্বীপের আয়তন বাড়ছে।
চার পাশের সব কিছু যখন ছোট হয়ে আসছে, সীমিত জায়গায় অধিক জনবসতি নিয়ে যখন আতঙ্ক, তখন এমন খবর দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলতে পারে অনেককে। তাই বিষয়টি আরো খোলাসা করে বলা দরকার। গবেষণা সূত্র বলছে, প্রায় ২০০ বছর আগে ১৭৮৯ সালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলের অদূরবর্তী সাগরদ্বীপ মহেশখালীর আয়তন ছিল মাত্র ১৮৮ বর্গকিলোমিটার। ১৮৮২ সালে দ্বীপটির ভূমির মোট আয়তন বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২০৪ বর্গকিলোমিটারে। মাতারবাড়ী, ধলঘাটা ও সোনাদিয়া চর জেগে ওঠার ফলে দ্বীপের উত্তর ও দেিণ বড় হতে থাকে। একপর্যায়ে মহেশখালী দ্বীপাঞ্চল এলাকার আয়তন দাঁড়ায় প্রায় ৩৮৮ বর্গকিলোমিটার। এ তো গেল শুধু দ্বীপাঞ্চলের কথা। মহেশখালী মূল দ্বীপ ও সংলগ্ন শাপলাপুরের নুনাছড়ি প্রায় ২০০ একর, কুতুবজোমে সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা মৌজায় প্রায় ৯ হাজার একর, ধলঘাটার হাঁসেরদিয়া এলাকায় প্রায় ৯০০ একর, হোয়ানকের আমাবস্যখালী মৌজায় প্রায় পাঁচ হাজার একর, মাতারবাড়ী প্রায় ২০০ একরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ২৫ হাজার একর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল জেগে উঠেছে। নতুন চরাঞ্চলগুলো বছর বছর সম্পূর্ণরূপে মহেশখালীর মূল ভূভাগের সাথে সংযুক্ত হয়ে দ্বীপটির আয়তন বাড়িয়ে তুলছে। ফলে সমুদ্র আর পাহাড়ঘেরা এই দ্বীপ পাচ্ছে ভিন্নমাত্রা।
আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃত ইনডেক্স জার্নাল ‘ওরিয়েন্টাল জিওগ্রাফার’-এ প্রকাশিত ‘স্টাডিজ অন জিওমর্ফোলজিক্যাল এনভায়রনমেন্ট অব দ্য মহেশখালী আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণামূলক নিবন্ধে দ্বীপ মহেশখালীর গঠনপ্রক্রিয়াগত বিবর্তন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০০ বছর আগে ১৭৭৮ সালে মেজর রেনেলের মানচিত্রে মাতারবাড়ী চরের কোনো নাম-নিশানা ছিল না। সোনাদিয়া চরের আয়তন ছিল মাত্র ১ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার।
১৮৯২ সালে ‘সার্ভে অব ইন্ডিয়ার’ মানচিত্রে মাতারবাড়ীর আয়তন দেখানো হয় ২৫
দশমিক ৪৫ বর্গকিলোমিটার এবং সোনাদিয়ার আয়তন ছিল মাত্র ১০ বর্গকিলোমিটার।
১৯৯৫ সালে নতুন দ্বীপ দু’টির আয়তন বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে প্রায় ৪০
বর্গকিলোমিটার এবং ৩১ দশমিক ০৫ বর্গকিলোমিটার। ওই গবেষণামূলক নিবন্ধে আরো
বলা হয়, মহেশখালীর মূল ভূখণ্ড বিগত ২০০ বছরে প্রায় ৪৪ শতাংশ বেড়েছে আর
সমগ্র মহেশখালী বড় হয়েছে প্রায় ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গবেষণা সূত্র বলছে, ১৭৭৯
সালে মহেশখালী চ্যানেলের গড় গভীরতা যেখানে ১৫-৩৩ মিটার ছিল, তা ১৯৮৩ সালে
কমে ৯-২০ মিটারে পৌঁছে। ১৯৯৯-২০০০ সময়কালে তা আরো কমে ৫-৮ থেকে ১০ মিটারে
দাঁড়ায়। দ্বীপটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চ্যানেলটি একেবারেই সঙ্কীর্ণ এবং
অগভীর হয়ে পড়েছে। মহেশখালী ও সংলগ্ন প্রায় একীভূত অন্যান্য চরাঞ্চলের মোট
৩১০ বর্গকিলোমিটার ভূমির প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার বা ২৬ শতাংশ পাহাড়ি ভূমি
(আদিনাথ রেঞ্জ), ৩৩ বর্গকিলোমিটার বা ১১ শতাংশ প্যারাবন সমভূমি, ৬৪
বর্গকিলোমিটার বা প্রায় ২১ শতাংশ অঞ্চল নবগঠিত উপকূলীয় জোয়ার-ভাটা প্রভাবিত
প্যারাবন ভূমি বা ম্যানগ্রোভ জোয়ার-ভাটাজাত সমভূমি এবং প্রায় ৮১
বর্গকিলোমিটার বা ২৬ শতাংশ অঞ্চল সক্রিয় জোয়ার-ভাটাজাত প্যারাবন সমভূমি।
দ্বীপটিতে বর্তমানে প্রায় ৬০ বর্গকিলোমিটার বা ২০ শতাংশ নতুন জেগে ওঠা
কর্দমভূমি, বালুকা বেলাভূমি অগভীর মগ্নচড়া গড়ে উঠেছে।
মহেশখালীর ভূমি গঠনের এ পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় মাত্র ১৫-২০ বছরের মধ্যে দ্বীপটি আয়তনে প্রায় দ্বিগুণ বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মূল ভূভাগের সাথে এ দ্বীপের সংযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।
বড় হতে থাকা ওই দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ থেকে যারা এখনো বঞ্চিত। তাদের সময় করে একবার হলেও সাগরকন্যার সান্নিধ্যে যাওয়া উচিত। কক্সবাজার থেকে যাওয়ার পথে বালিহাঁসের ঝাপটাঝাপটি দেখে ভ্রমণপিপাসু মন আনন্দে নেচে উঠবে এমনিতেই। ঢেউয়ের তাড়নে বোটের নাচন শিহরিত করবে যে কাউকে। ৪-৫ ফুট ওপরে উঠে পরণেই ধপাস করে পানিতে আছাড় খাবে স্পিডবোট। সব মিলিয়ে রোমাঞ্চকর নৌভ্রমণও মনের মধ্যে গেঁথে থাকবে অনেক দিন।
কিভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে কক্সবাজার বিমান অথবা বাসে করে। অবশ্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ট্রেনেই যেতে পারেন। সেখান থেকে ৩০ মিনিট পর পর কক্সবাজারের উদ্দেশে বিভিন্ন বাস ছেড়ে যায়। কক্সবাজার শহর থেকে অটোতে কস্তুরা ঘাট বা ৬ নম্বর জেটি। ভাড়া ৩০-৪০ টাকা। সেখান থেকে স্পিডবোটে মহেশখালী। ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা, সময় লাগবে ১৫-২০ মিনিট। আর ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ১ ঘণ্টা। অফুরন্ত সময় থাকলে যেতে পারেন সাধারণ নৌকায় করে। এতে মজা পাবেন আরো বেশি।
কোথায় থাকবেন : মহেশখালীতে থাকার ব্যবস্থা নেই। দিন শেষে আপনাকে কক্সবাজার এসেই থাকতে হবে। সূত্র : নয়া দিগন্ত
মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পান |
চার পাশের সব কিছু যখন ছোট হয়ে আসছে, সীমিত জায়গায় অধিক জনবসতি নিয়ে যখন আতঙ্ক, তখন এমন খবর দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলতে পারে অনেককে। তাই বিষয়টি আরো খোলাসা করে বলা দরকার। গবেষণা সূত্র বলছে, প্রায় ২০০ বছর আগে ১৭৮৯ সালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলের অদূরবর্তী সাগরদ্বীপ মহেশখালীর আয়তন ছিল মাত্র ১৮৮ বর্গকিলোমিটার। ১৮৮২ সালে দ্বীপটির ভূমির মোট আয়তন বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২০৪ বর্গকিলোমিটারে। মাতারবাড়ী, ধলঘাটা ও সোনাদিয়া চর জেগে ওঠার ফলে দ্বীপের উত্তর ও দেিণ বড় হতে থাকে। একপর্যায়ে মহেশখালী দ্বীপাঞ্চল এলাকার আয়তন দাঁড়ায় প্রায় ৩৮৮ বর্গকিলোমিটার। এ তো গেল শুধু দ্বীপাঞ্চলের কথা। মহেশখালী মূল দ্বীপ ও সংলগ্ন শাপলাপুরের নুনাছড়ি প্রায় ২০০ একর, কুতুবজোমে সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা মৌজায় প্রায় ৯ হাজার একর, ধলঘাটার হাঁসেরদিয়া এলাকায় প্রায় ৯০০ একর, হোয়ানকের আমাবস্যখালী মৌজায় প্রায় পাঁচ হাজার একর, মাতারবাড়ী প্রায় ২০০ একরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ২৫ হাজার একর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল জেগে উঠেছে। নতুন চরাঞ্চলগুলো বছর বছর সম্পূর্ণরূপে মহেশখালীর মূল ভূভাগের সাথে সংযুক্ত হয়ে দ্বীপটির আয়তন বাড়িয়ে তুলছে। ফলে সমুদ্র আর পাহাড়ঘেরা এই দ্বীপ পাচ্ছে ভিন্নমাত্রা।
আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃত ইনডেক্স জার্নাল ‘ওরিয়েন্টাল জিওগ্রাফার’-এ প্রকাশিত ‘স্টাডিজ অন জিওমর্ফোলজিক্যাল এনভায়রনমেন্ট অব দ্য মহেশখালী আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণামূলক নিবন্ধে দ্বীপ মহেশখালীর গঠনপ্রক্রিয়াগত বিবর্তন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০০ বছর আগে ১৭৭৮ সালে মেজর রেনেলের মানচিত্রে মাতারবাড়ী চরের কোনো নাম-নিশানা ছিল না। সোনাদিয়া চরের আয়তন ছিল মাত্র ১ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার।
আদিনাথ ব্রিজ |
মহেশখালীর ভূমি গঠনের এ পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় মাত্র ১৫-২০ বছরের মধ্যে দ্বীপটি আয়তনে প্রায় দ্বিগুণ বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মূল ভূভাগের সাথে এ দ্বীপের সংযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।
বড় হতে থাকা ওই দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ থেকে যারা এখনো বঞ্চিত। তাদের সময় করে একবার হলেও সাগরকন্যার সান্নিধ্যে যাওয়া উচিত। কক্সবাজার থেকে যাওয়ার পথে বালিহাঁসের ঝাপটাঝাপটি দেখে ভ্রমণপিপাসু মন আনন্দে নেচে উঠবে এমনিতেই। ঢেউয়ের তাড়নে বোটের নাচন শিহরিত করবে যে কাউকে। ৪-৫ ফুট ওপরে উঠে পরণেই ধপাস করে পানিতে আছাড় খাবে স্পিডবোট। সব মিলিয়ে রোমাঞ্চকর নৌভ্রমণও মনের মধ্যে গেঁথে থাকবে অনেক দিন।
কিভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে কক্সবাজার বিমান অথবা বাসে করে। অবশ্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ট্রেনেই যেতে পারেন। সেখান থেকে ৩০ মিনিট পর পর কক্সবাজারের উদ্দেশে বিভিন্ন বাস ছেড়ে যায়। কক্সবাজার শহর থেকে অটোতে কস্তুরা ঘাট বা ৬ নম্বর জেটি। ভাড়া ৩০-৪০ টাকা। সেখান থেকে স্পিডবোটে মহেশখালী। ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা, সময় লাগবে ১৫-২০ মিনিট। আর ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ১ ঘণ্টা। অফুরন্ত সময় থাকলে যেতে পারেন সাধারণ নৌকায় করে। এতে মজা পাবেন আরো বেশি।
কোথায় থাকবেন : মহেশখালীতে থাকার ব্যবস্থা নেই। দিন শেষে আপনাকে কক্সবাজার এসেই থাকতে হবে। সূত্র : নয়া দিগন্ত
No comments:
Post a Comment